Header Ads

প্রেসক্লাবের সামনে সনাতনী আইনজীবীর ওপর উগ্র আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে চৈতালী !"

 প্রেসক্লাবের সামনে সনাতনী আইনজীবীর ওপর উগ্র আচরণের তীব্র নিন্দা,,,



রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবসহ জনসম্মুখের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন আইনজীবীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক, হুমকিমূলক বা আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন মানুষ কোনো বিষয়ে যে মতই প্রকাশ করুন না কেন, তার সঙ্গে মতের বিরোধিতা করতে হবে যুক্তি, বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে—শারীরিক আক্রমণ, ভয়ভীতি বা অপমানের মাধ্যমে নয়।

সম্প্রতি আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তীকে ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এবং তাঁর ওপর হামলা বা লাঞ্ছনার অভিযোগ—দুই ধরনের বক্তব্যই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার বা একতরফা বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছিল, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা দরকার—কোনো আইনজীবী বা নাগরিকের বক্তব্য কারও কাছে আপত্তিকর মনে হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই আপত্তিকে কেন্দ্র করে জনসম্মুখে উত্তেজনা সৃষ্টি, অপমান, হুমকি কিংবা হামলার অভিযোগ কোনোভাবেই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না।

চৈতালী চক্রবর্তীকে ঘিরে এর আগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য পৃথক প্রদেশ গঠনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছে এবং কেউ কেউ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে।

কিন্তু বক্তব্যের প্রতিবাদ আর একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে পাল্টা বক্তব্য দেওয়া যায়, সংবাদ সম্মেলন করা যায়, আইনি প্রতিকার চাওয়া যায় কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা যায়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিশেষ করে একজন আইনজীবীর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আইনজীবীরা আদালত ও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটির বিচারও আইনের কাঠামোর মধ্যেই হওয়া উচিত।

আমরা চাই—

১ ঘটনার প্রকৃত সত্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা হোক।

২ হামলা, হুমকি বা লাঞ্ছনার অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

৩ একই সঙ্গে চৈতালী চক্রবর্তীর বক্তব্য নিয়ে যেসব অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে, সেগুলোরও আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা হোক।

৪ কোনো পক্ষকেই ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে রাখা না হোক।

৫ জাতীয় প্রেসক্লাব, আদালত প্রাঙ্গণসহ জনসমাগমস্থলে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যের নিরাপত্তা ও মর্যাদাও গুরুত্বপূর্ণ।

সনাতনী হোন, মুসলিম হোন কিংবা অন্য কোনো ধর্মের মানুষ—কেউই আইনবহির্ভূত আচরণের শিকার হওয়া উচিত নয়। মতের পার্থক্য থাকবেই; কিন্তু সেই পার্থক্যের সমাধান হতে হবে যুক্তি, সংলাপ ও আইনের মাধ্যমে—উগ্রতা বা সহিংসতার মাধ্যমে নয়।

ঘটনার সত্য উদঘাটন হোক, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হোক এবং একই সঙ্গে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনের শাসন অক্ষুণ্ন থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।

No comments

Theme images by sndrk. Powered by Blogger.