আমিষ আহার যেসব অসাধ্য রোগের জন্ম দেয়।
আমিষ আহার যেসব অসাধ্য রোগের জন্ম দেয়
আমিষ আহার যেসব অসাধ্য রোগের জন্ম দেয় সম্প্রতি এই বিষয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে করা অনুসন্ধানের তালিকা হল এইরূপ-
হৃদরোগ এবং উচ্চরক্তচাপ-রক্তের শিরার দেওয়ালের গায়ে কোলেষ্টরল জমা হওয়া হল এর প্রধান কারণ। কোলেষ্টরল এর সর্বাধিক স্রোত ডিম, তারপর মাংস, মাখন ও ঘি। ১০০ গ্রাম ডিম প্রতিদিন গ্রহণ করলে প্রয়োজনের তুলনায় ২১।২ গুণ বেশি কোলেষ্টরল সংগ্রহ করা হয়।
জগতের মহাপুরুষগণ কর্তৃক আমিষ আহারের নিন্দা
বিশ্বের ইতিহাসে দৃষ্টি দিলে জানা যায় যে জগতের সমস্ত বিখ্যাত মহাপুরুষ, চিন্তাশীল ব্যক্তি, বৈজ্ঞানিক, শিল্পী, কবি, লেখক, যেমন পিথাগোরাস, প্লুটার্ক, স্যার আইজাক নিউটন, মহান চিত্রকর লিওনার্ডো দ্যা ভিঞ্চি, ডাঃ এ্যানি বেসান্ত, এ্যালবার্ট আইনষ্টাইন, এরা সকলেই নিরামিশী ছিলেন।
শাকাহারের জন্যই তাঁরা সহিষ্ণুতা, দয়া, অহিংসা ইত্যাদি সদ্গুণ দ্বারা বিভূষিত হয়েছিলেন। মহান বৈজ্ঞানিক এ্যালবার্ট আইনষ্টাইন বলেছেন যে "নিরামিষ আহারের দ্বারা প্রকৃতির ওপর গভীর প্রভাব পড়ে। জগৎ যদি নিরামিষ ভোজী হয় তাহলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে পারে।
জল-চিকিৎসার আবিষ্কারক
সুপ্রসিদ্ধ স্যার লুইকুও বলেছেন যে, মানুষ আমিষাশী প্রাণী নয়। তারা মাংসভক্ষণ করে প্রকৃতির বিরুদ্ধ কর্ম করে নানা প্রকার বিপদ ডেকে আনে। লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি খাঁচায় বন্দী পাখি কিনে, তাদের উড়িয়ে দিতেন। তিনি বলতেন যে, মানুষ যদি স্বাধীনতা চায়, তাহলে পশু-পাখিদের কেন বন্দী করে ?
সেন্ট ম্যাথু, সেন্ট পল মাংসাহারকে ধার্মিক পতনের সূচক বলে মনে করতেন। মেথোডিষ্ট এবং সেভেন্থ ডে এডভেন্টিস্ট আমিষ আহার ও মদ্যপানের কঠোর নিষেধ করেছেন। টলস্টয় এবং রুশ-এর খ্রীষ্টান মোমিনও আমিষ আহার করা খ্রীষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধ বলে জানিয়েছেন।
গ্রীক দার্শনিক পিথাগোরাসের শিষ্য রোমান কবি সেনেকা নিরামিষাশী হয়ে অত্যন্ত সুখপ্রদ আশ্চর্য অনুভূতি লাভ করেছিলেন যে, তাঁর মন পূর্বের থেকে বেশি সুস্থ, সচেতন ও সমর্থ হয়ে গিয়েছিল।
জর্জ বার্নার্ড শ তাঁর এক কবিতায় লিখেছিলেন যে, 'আমরা মাংস ভক্ষণকারীরা হলাম এক একটি জীবন্ত কবর, যার মধ্যে জানোয়ারদের মৃতদেহ পোরা আছে-আমাদের স্বাদের জন্য যাদের বধ করা হয়েছে।'
ডাক্তারেরা বার্নার্ড শ কে বলেছিলেন 'মাংস না খেলে আপনি মরে যাবেন।' তার উত্তরে বার্নার্ড শ বলেছিলেন 'মাংস খাওয়ার থেকে মৃত্যু শ্রেয়'। তিনি ডাক্তারদের বলেছিলেন 'আমি যদি বেঁচে যাই, তাহলে আশা করব আপনারাও নিরামিষাশী হবেন'।
বার্ণার্ড শ তো বেঁচে গেলেন, কিন্তু ডাক্তারেরা নিরামিষাশী হলেন না। এই মহান ব্যক্তি সঙ্গী-জীবদের খাওয়ার পরিবর্তে মৃত্যুও শ্রেয় বলে মনে করেছিলেন।
এরূপ মহাত্মা গান্ধীর সন্তানের যখন কঠিন অসুখ হয় তখন ডাক্তারেরা তাঁকে বলেছিলেন, শিশুকে মাংসের সুপ না দিলে সে বাঁচবে না। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, পরিণাম যা-ই হোক না কেন, মাংসের সূপ দেওয়া যাবে না। শিশুটি মাংসের সুপ না খেয়েই বেঁচে গিয়েছিল।
চাণক্য নীতিতে বলা হয়েছে যে, যে মাংস খায়, মদ্যপান করে সেই পুরুষরূপী পশুদের ভারে পৃথিবী দুঃখ পেয়ে থাকে। মহর্ষি রমণ অহিংসাকে সর্বপ্রথম ধর্ম বলে জানিয়েছেন এবং সাত্ত্বিক আহার যেমন ফল, দুধ, শাক-সব্জী ইত্যাদি একটি নিশ্চিত মাত্রায় গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভারতীয় ঋষি-মুনি কপিল, ব্যাস, পাণিনি, পতঞ্জলি, শংকরাচার্য, আর্যভট্ট আদি সকল মহাপুরুষ, ইসলামের সব সূফী সন্ত এবং 'অহিংসা পরমো ধর্মঃ' প্রচারক মহাত্মা বুদ্ধ, ভগবান মহাবীর, গুরুনানক, মহাত্মা গান্ধী সকলেই শুদ্ধ নিরামিষ আহারী ছিলেন এবং এঁরা সকলেই আমিষ আহারের বিরোধিতা করেছেন।
কারণ শুদ্ধ বুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিকতা আমিষ আহারের দ্বারা সম্ভব নয়। মহাত্মা গান্ধী এমন কথাও বলেছেন যে, 'আমার বিচারানুসারে গো রক্ষার প্রশ্ন স্বরাজ্যের প্রশ্ন থেকে ছোট নয়। কয়েকটি বিষয়ে আমি সেটি স্বরাজ্যের প্রশ্ন থেকেও বড়ো মনে করি।
আমার কাছে গো-হত্যা এবং মানুষ হত্যা একই মনে হয়।' প্রসিদ্ধ কবি Coleridge তাঁর কবিতায় (The Ancient Mariner) বলেছেন সেটি হল সকল ধর্মের সারকথা।
He prayeth best, who loveth best All things both extraordinary and little, For the dear God who loveth us,He made and loveth all.
ভাবার্থ - যিনি এই জগতের ছোটো-বড়ো সকল প্রাণীর তথা সকল বস্তুর প্রতি অসীম ভালোবাসা পোষণ করেন, তিনিই ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ উপাসক; কারণ, সেই পরমেশ্বর-যিনি আমাদের পরম প্রিয় এবং আমাদের সবাইকে যিনি একান্তভাবে ভালোবাসেন তিনিই এই সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং এই সমস্ত কিছুতেই তাঁর প্রেম সমানভাবে ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছে।
No comments