চার যুগে চারি ধর্ম জীবের কারণ কলি যুগে ধর্ম হয় নাম সংকীর্ত্তন।
কলি যুগের ধর্ম এক ভাগ এবং পাপ তিন ভাগ। কলির জীব অল্পায়ু, ধর্ম বিমুখ, বিপথগামী। তাই বিগত তিন যুগের ধর্মাচার কলির জীবের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই ভগবান কলির জীবের দুর্দশা সম্পর্কে অবগত হয়ে অতি সহজ-সরল নাম সংকীর্ত্তন প্রচার করেন।
"কৃতে যদ্ধ্যায়ত
বিষ্ণুং এতোয়াং
ঘজতো মৈখঃ
দ্বাপরে পরিচর্যায়াং
কৌল তদ্ধরিকীর্তনাৎ।।"
-(ভাগবত ১২/৩/৫২)
সত্য যুগে তপস্যা, ত্রেতা যুগে যজ্ঞ, দ্বাপরে অর্চনা করে যে ফল লাভ হতো কলি যুগে নাম সংকীর্ত্তনের মাধ্যমেই তা লাভ হয়।
অন্তরে গোবিন্দ, বহিরাঙ্গে রাধা হয়ে নদীয়ায় অবতীর্ণ হয় গৌর। গোবিন্দের 'গো' আর রাধার 'রা' এই নিয়ে হলো গোরাচাঁদ। মহাপ্রভু আমাদের যা দান করেছেন তা অতি মূল্যবান। প্রশংসা করলেও তার সিকিভাগ করা হবে না। রাধা ভাবে ভাবিত হয়ে দেখিয়েছে কীভাবে ভগবানকে ভালোবাসতে হবে।
"আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়"
-(চৈতন্য চরিতামৃত)
অর্থাৎ নিজে ধর্মাচরণ করতে হবে, অতঃপর অপরকে শিক্ষা দিতে হবে। তাই প্রভু কলিহত জীবকে উদ্ধার করতে নিজে নেমে এলেন প্রচার করতে। নিজে আচরণ করে জীবকে দেখিয়ে দিলেন কীভাবে নাম সংকীর্ত্তন করতে হয়। ভাগবত শাস্ত্র, গীতা শাস্ত্রকে কীভাবে উপলব্ধি করতে হবে তা শিখিয়ে দিলেন আমাদের চৈতন্য মহাপ্রভু। ইহা তাঁর এক অপার দান। কিন্তু ধর্ম বিমুখ কলির জীব এত সহজ-সরল ধর্মাচরাণ করতেও নারাজ, তবে বিগত চার যুগের ধর্মাচারণ অবলম্বন করা কি সহজ হতো কলির জীবের জন্য?
মহাপ্রভু যে সম্পদ উপলব্ধি করিয়েছেন, তা ব্যবহার করলে ফুরোবে না, বরং তা উৎকৃষ্ট হবে, বৃদ্ধি পাবে।
যদি এই জগতে নামের সওদায় ঝোলা বোঝাই করা যায়, তাহলে পরকালের ভবকান্ডারী হয়ে গোবিন্দ অনায়াসে আমাদের ভবনদী পাড় করে দেবেন।।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম
হরে হরে
No comments