Header Ads

হিন্দু ধর্মের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কি?

হিন্দু ধর্মের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি কি?


অদ্বৈতবাদ কি?কর্মবাদে বিশ্বাস কি? অধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস কি?


অবতারবাদে বিশ্বাসঃ হিন্দু ধর্ম অবতারবাদে বিশ্বাসী। অবতার অর্থ হলো অবতরণকারী। হিন্দুশাস্ত্রের পরিভাষায় স্বর্গ   থেকে ঈশ্বর মনোনীত যে মহাপুরুষগণ মানুষকে নীতি শিক্ষাদানের জন্য মর্তে আগমন করেন   তাঁদেরকে অবতার বলা হয়। সাধারণত জগৎ-জীবনকে দিব্য প্রকৃতিতে উঠাবার এবং ধর্ম সংস্থাপন ও অধর্মের বিনাশের জন্য ঈশ্বরের পক্ষ থেকে অবতারগণ আগমন করে থাকেন।

পরস্পর বিরোধী বিশ্বাসের সহাবস্থান:হিন্দু ধর্মে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়। হিন্দু ধর্ম বলতে কোন একটি বিশেষ   ধরনের ধর্ম সম্বন্ধীয় অভিজ্ঞতাকে বুঝায় না; বরং এ ধর্মে বিভিন্ন মনীষী ও মাহপুরুষদের   দ্বারা প্রাপ্ত ধর্ম সম্বন্ধীয় বিভিন্ন অভিজ্ঞতার একত্র সংযোগ লক্ষ্য করা যায়। কাজেই এই ধর্মে পরস্পর বিরোধী   বিশ্বাস লক্ষ্য করা যায়। এ ধর্ম পরস্পর বিরোধী বিশ্বাসের   সহাবস্থান সম্বলিত বৈচিত্র্যময় ধর্ম। এমন বিচিত্র ব্যাপার প্রচলিত   ধর্মসমূহের আর কোনটিতেও দেখা যায় না।

জরা জীবন থেকে মুক্তি লাভে বিশ্বাস:

হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস হল,

(ক) কর্মের মাধ্যমে এবং

(খ) জ্ঞানের মাধ্যমে জাগতিক জরা জীবন থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

এ ধর্মের নীতি হল, নিষ্কাম সাধনা, অর্থাৎ কর্তব্যের খাতিরে মরে যাও, তবুও ফলের আশা করো না। এ ধর্ম বলে, কর্মের মাধ্যমে যে মুক্তি লাভ করা যায় তা হল স্বর্গলাভ।

(গ) এতে আরো মনে করা হয়, ঈশ্বরের করুণার মাধ্যমেও মুক্তি লাভ করা যায়।

পুনর্জন্ম মতবাদে বিশ্বাস:হিন্দু ধর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল পুনর্জন্মে বিশ্বাস। পুনর্জন্মের অর্থ হলো জীবের মৃত্যুর পর আত্মা নতুন দেহ ধারণ করে পুনঃপুনঃ পৃথিবীতে আগমন করবে। গীতায় বলা হয়েছে, ''মানুষ যেমন জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে, আত্মাও তেমনি জীর্ণ দেহ ত্যাগ করে অন্য নতুন দেহ গ্রহণ করবে। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস হল পুনর্জন্মবাদ যা অদ্বৈতবাদের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। প্রাচীন বৈদিক যুগে এর অস্তিত্ব ছিল না।তখন পর্যন্ত হিন্দুদের ভিতর এই জড়-পার্থিব জীবন সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিকোণ ছিল। তারা বিশ্বাস করত যে, মৃত্যুর পর তারা চিরকাল চালু থাকবে। তাদের ধারনা ছিল এমন যে, মৃত্যুর পর তারা পূণ্য কাজের জন্য স্বর্গে প্রবেশ করবে আর মৃত্যুর পর তারা নরকে প্রবেশ করবে যদি তারা ভাল কাজ সম্পন্ন না করে যায়।কিন্তু কিছুদিন পরেই তারা তাদের এই ধ্যান-ধারনাকে বিসর্জন দিয়ে পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাসী হয়ে উঠে। এই পুনর্জন্মে তাকে কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। আর এই ধারা অনন্তকাল পর্যন্ত বিরাজমান থাকবে। এই ধ্যান-ধারনা হিন্দুদের হীনবল ও নিম্নমুখী করে তুলে।তার উপর এক হতাশাব্যঞ্জক ঔদাসীন্য মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে।উপরুন্ত এই বিশ্বাস থেকেই অদৃষ্টবাদের রপগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মানুষের ভাগ্য তার পুনর্জন্মবাদের দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে। শত চেষ্টা করলেও তা পরিবর্তন করতে পারবে না। মানুষ তার কৃতকর্মের দরুন নিম্ন জীব-জানোয়ারের রুপে জন্মগ্রহণ করতে পারে।


অদ্বৈতবাদ কি? হিন্দুধর্মে আরাধ্যের আধিক্য তার অদ্বৈতবাদের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। অদ্বৈতবাদ হল সকল দেব-দেবী ও সকল প্রাকৃতিক শক্তি যেমনঃ বায়ু, পানি,নদী,ভূমিকম্প,মহামারী ইত্যাদি এক একক প্রাণশক্তির বিভিন্নরুপ আছে।

কর্মবাদে বিশ্বাস কি? কর্মবাদ অনুসারে মানুষকে অবশ্যই তার নিজ কর্মের ফল ভোগ করতে হবে। যেমন- সৎকর্মের   ফল পুণ্য বা সুখ এবং অসৎ কর্মের ফল পাপ ও দুঃখ।

অধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস কি?হিন্দু ধর্ম আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী।

ঈশ্বরের প্রতি বিভিন্নধর্মী বিশ্বাস:ঈশ্বরের আকার প্রসঙ্গে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এই ধর্ম বিভিন্ন মতবাদ পোষণ   করে। হিন্দুদের বড় তিনজন দেবতা হল ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও শিব। এদের আওতাধীন রয়েছে আবার অসংখ্য দেব-দেবী। তাদের বিশ্বাস হল এই যে, ব্রহ্মা হল বিশ্বজগতের স্রষ্টা,বিষ্ণু পালনকর্তা এবং শিব সংহারকর্তা।  হিন্দুগণ বিশ্বাস করে যে, বিশ্বজগৎ সৃষ্টির পর থেকে ব্রহ্মার সাথে সৃষ্টির কোন সম্পর্ক নেই।তাই তারা শিব ও বিষ্ণুর উপাসনা করে  থাকে। তারা বিশ্বাস করে তারা একাধিক কেউ নয় বরং তারা সকলে একই সত্ত্বার অধীনভূক্ত।তারা এভাবে করে একেশ্বরবাদের বিশ্বাসী।কিন্তু কেউ শিবের প্রতি আবার কেউ বিষ্ণুর প্রতি অতি গুরুত্বারোপ করে থাকে। এভাবে করে তাদের ভিতর  নানা সম্প্রদায় তথা বৈষ্ণব,ব্রাহ্মণ,শৈব্য,শাত্য ও গানপতা সম্প্রদায় লক্ষ্য করা যায়।

বেদে অকুণ্ঠ বিশ্বাস কি? সনাতন ধর্মের অনুসারীরা ঐশ্বীগ্রন্থরূপে বেদের অস্তিত্ব এবং কর্তৃত্বে বিশ্বাস করে।তাছাড়া বর্তমানে হিন্দু ধর্ম তার পুরাণ তথা প্রাচীন শাস্ত্রের উপর   নির্ভরশীল। এগুলো হল প্রাচীন ধর্মলিপি। এগুলোতে বিশ্ব সৃষ্টির অনেক কাহিনী   লিপিবদ্ব আছে।

ভিন্ন ধারার একেশ্বরবাদ কি? হিন্দু ধর্মে অসংখ্য দেবদেবীর অস্তিত্ব থকলেও মূলত একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম। এ ধর্ম এক পরম আধ্যাত্মিক সত্তায়   বিশ্বাসী। এ ধর্ম মনে করে যে, পরম ঈশ্বর বহু ঈশ্বরের মাঝে নিজেকে প্রকাশ   করেছেন। কাজেই হিন্দু ধর্ম প্রচলিত সকল ধর্মে বিশ্বাসের বাইরে এক বিশেষ ধরনের একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী।

বর্ণশ্রমে বিশ্বাস কি? এ ধর্মে বর্ণাশ্রমের ওপর বিশ্বাস রাখতে বলা হয়। যা হল ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শুদ্র।হিন্দুরা বিশ্বাস করে থাকে   যে, ব্রাহ্মণরা স্রষ্টার মুখ থেকে, ক্ষত্রিয়রা স্রষ্টার বাহু থেকে, বৈশ্যরা উরু   থেকে, শুদ্ররা স্রষ্টার পা থেকে সৃষ্টি। এখানে ব্রাক্ষণদের কাজ হল ধর্মীয়   দায়-দায়িত্ব বহন করবে, ক্ষত্রিয়গণ যুদ্ব পরিচালনা ও দেশ পরিচালনার কাজে নিয়োজিত   থাকবে, বৈশ্যগণ ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি কার্য সম্পাদন করবে এবং শুদ্রগণ উপরোক্ত   তিন শ্রেণীর সম্প্রদায়ের সেবা-শুশ্রুষা করবে।

জীবনের স্তরবিন্যাস কি? হিন্দু ধর্ম   বিশ্বাস করে, মানুষের জীবনের স্তর চারটি। যেমন-

ক. ব্রহ্মচর্য কি?  এ স্তর জন্ম থেকে ২৫ বছরকাল পর্যন্ত। এ স্তরে মানুষ লেখাপড়া ও জ্ঞানার্জনে নিয়োজিত থাকবে।

খ. গার্হস্থ্য কি? এ স্তর ২৫ থেকে ৫০ পর্যন্ত স্থায়ী। এ সময়ে সংসার ধর্ম পালন করবে।

গ. বানপ্রস্থ কি? এ স্তর ৫০ থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে মানুষ তৃতীয় আশ্রম তথা নির্জনবাসে ঈশ্বরের ধ্যানমগ্ন থাকবে।

ঘ. সন্ন্যাস কি? এ স্তর ৭৫ বছর থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত। এ সময়ে মানুষ সংসার থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করে ঈশ্বর লাভে জপ-তপ করবে।


No comments

Theme images by sndrk. Powered by Blogger.