বগুড়ার রীতা রানী মজুমদার হত্যার দুই খু*নি কে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ,।
বগুড়ার রীতা রানী মজুমদার হত্যার দুই খু*নি কে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ,।
বগুড়ার রীতা রানী মজুমদার হত্যার
দুই খু*নি কে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ,।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মোমিনহাটা গ্রামে জমি বিক্রির টাকা চুরির উদ্দেশ্যে গভীর রাতে রীতা রানী মজুমদারকে (৪৫) গলা কেটে হত্যা করা হয়。 চোরকে চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়。 এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ এরই মধ্যে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে,
ঘটনার পটভূমি
নিহত রীতা রানী মজুমদার ওই এলাকার বিধান চন্দ্র রায়ের স্ত্রী。 তাদের ছেলে ও মেয়ে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকায় বাড়িতে শুধু এই দম্পতিই থাকতেন।
যেভাবে ঘটনাটি ঘটে
রাত ১০টা: প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে স্বামী-স্ত্রী নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান。
রাত সোয়া ১২টা: হঠাৎ নিজের ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দ শুনে স্বামীর ঘুম ভেঙে যায়。
হত্যাকাণ্ড: একই সময় পাশের ঘর থেকে স্ত্রীর অস্বাভাবিক গোঙানির শব্দ শুনতে পান তিনি。 তড়িঘড়ি করে পাশের কক্ষে গিয়ে দেখেন, রীতা রানী রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং তার গলাকাটা。 এ সময় তাদের শোবার ঘরের মূল দরজা খোলা ছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়。 পরে তদন্তে জানা যায়, জমি বিক্রির টাকা চুরি করতে গিয়ে গৃহবধূ চিনে ফেলায় তাকে ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়。 পুলিশ এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করেছে。 বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি, প্রথম আলো বা দৈনিক ইনকিলাব এর প্রতিবেদনগুলো পড়তে পারেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়:
১. শাওন মিয়া (২০): গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা পূর্বপাড়ার ফরিদ প্রামাণিকের ছেলে।
২. আনোয়ার হোসেন (৩৫): একই এলাকার মোকলেছের ছেলে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ:
পেশা ও চক্রান্ত: তারা দুজনেই পেশায় দিনমজুর এবং একসঙ্গে ধান কাটার কাজ করতেন। আনোয়ার হোসেন পরিকল্পনা করেন যে রিতা রানীর বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা আছে এবং তা লুট করতে হবে।
প্রস্তুতি ও আক্রমণ: চুরির উদ্দেশ্যে আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে ৬০০ টাকা দিয়ে দুটি নতুন হাসুয়া কেনেন। ঘটনার রাতে তারা রিতা রানীর ঘরে ঢোকেন। কিন্তু রিতা রানী চোর হিসেবে আনোয়ারকে চিনে ফেলায় তারা তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন।
আলামত উদ্ধার: পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা হাসুয়া দুটি উদ্ধার করেছে। এছাড়া তাদের রক্তমাখা পোশাক ও মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

No comments