Header Ads

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৫ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।,

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৫ সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।



একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।


এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ ও র‍্যাব।


র‍্যাব-১১-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, শনিবার রাত থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই ৫ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সোমবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।


পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল মোস্তফা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। গত ২৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে ওঠেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয় রাত ১টা ২৫ মিনিটে, যখন তিনি কুমিল্লা শহরের টমছমব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর কথা জানান। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।



পরদিন সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি হোটেলের নিকটে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।


নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং পরিবারসহ কুমিল্লা শহরে বসবাস করতেন।


নিহতের স্ত্রী উর্মি হীরা স্বামীর হত্যার সঠিক কারণ জানতে চেয়ে বলেন, তিনি শুধু তার স্বামীর নিথর দেহ দেখেছেন, কিন্তু কীভাবে এমন নির্মম ঘটনা ঘটলো তার উত্তর চান। একইভাবে নিহতের মা নিলীমা বৈরাগীও দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুরো ঘটনাটি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জোরালো হচ্ছে।


No comments

Theme images by sndrk. Powered by Blogger.